১৯ বছরেও হয়নি আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার



১৯ বছরেও আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার সম্ভব হয়নি। ২০০০ সালের ১৮ আগষ্ট নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে ভূমিদস্যু হাতেম আলী ও সীতেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ওরফে গদাই এর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আলফ্রেড সরেন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এখনো এই মামলার কোনো সুরাহা হয়নি। এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ মামলার বিচার কার্য নিয়ে আদিবাসীদের মধ্যে রয়েছে সংশয়। আলফ্রেড সরেনের পিতা গায়না সরেন(৬৪) ছেলের হত্যা বিচারের আশায় প্রহর গুনতে গুনতে ২০০৮ সালে মারা যান।

আলফ্রেড সরেনের স্ত্রী জ্যোৎস্না সরেন। সরেনের একমাত্র কন্যা ঝরনা সরেন। সে ৮ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে (২০১০ সালে)। ওই ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে আদিবাসী পল্লীর পরিবারগুলোর বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটসহ অগ্নি সংযোগ করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ অর্ধশতাধিক আদিবাসী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল।

আদিবসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার ঘটনায় তার ছোট বোন রেবেকো সরেন বাদি হয়ে হত্যা ও জননিরাপত্তা আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেন। ওই মামলায় মহাদেবপুর থানা পুলিশ তদন্ত শেষে ৯১ জন আসামির নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পুলিশ কয়েক জন আসামীকে গ্রেফতারও করে। ওই সময় নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহন সম্পন্ন হয়েছিল। মামলার প্রধান ২ আসামী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাতেম আলী ও সীতেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ওরফে গদাইসহ ৬০ জনের অধিক আসামী জননিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে হাইকোর্ট ৩ মাসের জন্য মামলাটির স্থগিতাদেশ দেন। ওই সুযোগে আদালত থেকে আসামিরা জামিনে বেড়িয়ে আসে।

মামলার বাদি রেবেকা সরেন বলেন, ১০ বছরেও (২০১০ সালে) মামলাটির বিচার হলোনা। আসামিদের হুমকি ও নানান ষড়যন্ত্রের কারনে মামলার সাক্ষীরা ধীরে ধীরে আদিবাসী পল্লী ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এ মামলার অভিযুক্ত আসামী ও সহযোগিরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাকেসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা চেয়ে সংম্লিষ্ট থানায় সাধারন ডায়েরী করেছি। মামলা তুলে নেয়ার জন্য হত্যাকারীদের অনবরত হুমকীতে ভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। ওই মামলার সংশ্ল্লিষ্ট আইনজীবী (সলিসিটর) মহসীন রেজা জানান, মামলাটি অ্যাপিলেট ডিভিশন থেকে বদলী হয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনে শুনানির আপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আলফ্রেড সরেন মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বিলম্বিত বিচার ন্যায় বিচারের অন্তরায় হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

শেখ রফিক
[২০১০ সালে সামহোয়ারইনব্লগে প্রকাশিত লেখাটি আলফ্রেড সরেনের মৃত্যুদিনে পুনরায় সংকলন করা হলো। ]

Comments