জাহাঙ্গীর আলম জামাল
২১শে ফেব্রুয়ারি, শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।এই দিবস পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য এই স্বীকৃতি দাবী করে যে মাতৃভাষায় সকল ধরনের যোগাযোগ ও শিক্ষা লাভের অধিকার সার্বজনীন অধিকার।তবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই শহীদ দিবস আরো কিছু শিক্ষা ও তাৎপর্য রেখে যায়।অমর বীর শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারের প্রানোৎসর্গে মহিমান্বিত ফাল্গুনের এই দিনটি ফিরে ফিরে এসে কুহেলিকা সরিয়ে সরিয়ে প্রচন্ড বাধা বিপত্তি বিপর্যয়কে ভেদ করে বাংলাদেশের জনগনকে মুক্তি ও সমৃদ্ধির প্রয়াশ ও আকাঙ্খাকে বৈপ্লবিক প্রেরণা ও দায়িত্ববোধ যুগিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এদেশের মানুষ নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মত গণ আন্দোলনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব আন্দোলনের অংশগ্রহনকারী অধিকাংশই কিশোর তরুণ যারা আগামীদিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেবে।রাষ্ট্রযন্ত্র এসব আন্দোলনের দাবী পুরণে তামাশার আশ্রয় নিচ্ছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রযন্ত্র স্বৈরশাসকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের প্রত্যাশা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এদেশের সরকারের কাজে প্রতিফলিত হবে এমনটিই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাংলাদেশ গণদাবী-গণআন্দোলন দমনে ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে। অপরিসীম গৌরব ও ত্যাগের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করা বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে জনগনের উপর চেপে বসল কিভাবে?এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? এদেশের ইতিহাস তো ৫২’'র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান, একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ এর ইতিহাস দ্বারা সমৃদ্ধ।আমাদের এসব বৈপ্লবিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার কমতি নাই।তবুও এই রাষ্ট্র কেন দানব রুপ নিতে পারল?এর উত্তরে আমরা ইতিহাসের আরেকটি শিক্ষার দ্বারস্থ হতে পারি যে "ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না"।মুলত বীরত্ব, সাহসিকতা, হাজারো আত্মত্যাগ আমাদের এককদমও সামনে এগিয়ে নিতে পারবে না, যদি না ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সময়ের সুনির্দিস্ট যথাযথ কর্তব্য স্থির করতে পারি।যদি আমরা তরুণ-যুবাগন নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিতে রুপান্তরিত করে সমাজ পরিবর্তনের কাজ শুরু করতে চাই তবে শিক্ষার জন্য ইতিহাসের দ্বারস্থ হওয়ার বিকল্প নাই। এক্ষেত্রে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারীর মহান শহীদ দিবস এর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিবেচনা করতে পারি।
একুশে ফেব্রুয়ারী আমাদের কি শিক্ষা দেয়?আমরা জানি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি প্রথমে বুদ্ধিজিবিরাই করেছিলেন,কিন্তু তা প্রাণ পায়নি।এ দাবিতে প্রাণ এনেছে ছাত্ররাই । তবে সাধারন মানুষকে সাথে না পেলে ছাত্রদের পক্ষে অমন বিপ্লবীপনা সম্ভব ছিল না ।বুদ্ধিজীবি এবং ছাত্ররা সমাজের অগ্রসর অংশ এবং তারা সমাজের মাত্র পাচ শতাংশ মাত্র।অপরদিকে সাধারন মানুস,মোট জনসংখ্যার পচানব্বই শতাংশ,যারা গ্রামে থাকতেন এবং আধুনিক নন, তারা এ দাবীতে একাত্ম হয়েছেন বলেই ভাষা আন্দোলন প্রান পেয়েছে।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই ভুখন্ডে বসবাসকারি অসাম্প্রদায়িক ,স্বাধীনচেতা মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্যে সচেতন হয়েছে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। হাজার বছরের এ জনমন্ডলির মাতৃভাষা বাংলাকে যৌথ সম্পদের মহিমায় স্থান দিতেই ভাষা আন্দোলনে সাধারনের সমর্থন প্রদানের বস্তুগত কারন।তাই ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা হিসেবে আমরা পাই অসাম্প্রদায়িক গনমুখী দাবিতে বুদ্ধিজিবি-ছাত্র-সাধারন মানুষের ঐক্য।
দ্বিতীয় শিক্ষা হল এই যে, সমাজ রুপান্তরে সামন্তীয় উপনিবেশিক মধ্যযুগীয় ধ্যানধারনা ছিড়ে-ছুড়ে ফেলতে হবে।সমাজের মোড়লদের বাইরে নবনবীনদের নেতৃত্বে সমাজের বিপুল কৃষক,শ্রমিকও নারী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহন ছিল ভাষা আন্দোলনের বিস্ময়কর দিক। এ আন্দোলনে মধ্যযুগীয় মর্যাদাব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে এবং নতুন মর্যাদাবোধে নারী পুরুষের সাম্যের-সমঅধিকারের ধারণা বাস্তবায়ন হতে শুরু করেছে।গনবিরোধী ঔপনিবেশিক আইনের প্রতি প্রচলিত আনুগত্যবোধে এ আন্দোলন কুঠারাঘাত করেছে।তখনকার বুদ্ধিজীবীরা যেখানে জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিরোধীতা করেছে সেখানে ছাত্র জনতা, শ্রমিক জনতা ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিল বের করেছে।তখনকার পূর্ব-পাকিস্তানে এই গনবিপ্লবীপনা ছিল অভুতপুর্ব।
লড়াইয়ের উদ্দেশ্য এবং সাফল্যকে জীবন্ত রাখা এবং তাকে বিকশিত করার ধারাবাহিক লড়াই অতীব গুরুত্বপুর্ন, এটাকে আমারা ভাষা আন্দোলনের তৃতীয় শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করব।ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, শহিদদের স্মরণে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..." গান, "আরেক ফাল্গুণ" এর মত সাহিত্যে ভাষা আন্দলনের ইতিহাস চর্চা ইত্যাদি ইত্যাদি অনুসঙ্গ ছিল ভাষা আন্দোলন কে জীবন্ত ও তাৎপর্যপুর্ণ ও প্রাসঙ্গিক রাখার প্রয়াসের উদাহরণ।এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে এবং একাত্তরের সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রেরনা হিসেবে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারির ১৪৪ ধারা ভঙ্গের গৌরবময় ঔদ্ধত্যকে দেখতে পাই। তাই লড়াইয়ের ফসলকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের যথাযথ কর্মসুচি নিতে হবে এবং সমাজ বিকাশের লড়াই জারি রাখতে হবে।
এ সকল শিক্ষা আমাদের গৌরবের অর্জন।বর্তমান ফ্যাসিস্ট গুম খুনের শাসনের বিপরীতেও ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, শিক্ষা ও ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব আমাদের মুক্তি দিতে পারে বলে বিশ্বাস করি।
সাম্প্রতিক সময়ে এদেশের মানুষ নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মত গণ আন্দোলনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব আন্দোলনের অংশগ্রহনকারী অধিকাংশই কিশোর তরুণ যারা আগামীদিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেবে।রাষ্ট্রযন্ত্র এসব আন্দোলনের দাবী পুরণে তামাশার আশ্রয় নিচ্ছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রযন্ত্র স্বৈরশাসকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের প্রত্যাশা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এদেশের সরকারের কাজে প্রতিফলিত হবে এমনটিই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাংলাদেশ গণদাবী-গণআন্দোলন দমনে ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে। অপরিসীম গৌরব ও ত্যাগের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করা বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে জনগনের উপর চেপে বসল কিভাবে?এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? এদেশের ইতিহাস তো ৫২’'র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান, একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ এর ইতিহাস দ্বারা সমৃদ্ধ।আমাদের এসব বৈপ্লবিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার কমতি নাই।তবুও এই রাষ্ট্র কেন দানব রুপ নিতে পারল?এর উত্তরে আমরা ইতিহাসের আরেকটি শিক্ষার দ্বারস্থ হতে পারি যে "ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না"।মুলত বীরত্ব, সাহসিকতা, হাজারো আত্মত্যাগ আমাদের এককদমও সামনে এগিয়ে নিতে পারবে না, যদি না ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সময়ের সুনির্দিস্ট যথাযথ কর্তব্য স্থির করতে পারি।যদি আমরা তরুণ-যুবাগন নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিতে রুপান্তরিত করে সমাজ পরিবর্তনের কাজ শুরু করতে চাই তবে শিক্ষার জন্য ইতিহাসের দ্বারস্থ হওয়ার বিকল্প নাই। এক্ষেত্রে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারীর মহান শহীদ দিবস এর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিবেচনা করতে পারি।
একুশে ফেব্রুয়ারী আমাদের কি শিক্ষা দেয়?আমরা জানি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি প্রথমে বুদ্ধিজিবিরাই করেছিলেন,কিন্তু তা প্রাণ পায়নি।এ দাবিতে প্রাণ এনেছে ছাত্ররাই । তবে সাধারন মানুষকে সাথে না পেলে ছাত্রদের পক্ষে অমন বিপ্লবীপনা সম্ভব ছিল না ।বুদ্ধিজীবি এবং ছাত্ররা সমাজের অগ্রসর অংশ এবং তারা সমাজের মাত্র পাচ শতাংশ মাত্র।অপরদিকে সাধারন মানুস,মোট জনসংখ্যার পচানব্বই শতাংশ,যারা গ্রামে থাকতেন এবং আধুনিক নন, তারা এ দাবীতে একাত্ম হয়েছেন বলেই ভাষা আন্দোলন প্রান পেয়েছে।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই ভুখন্ডে বসবাসকারি অসাম্প্রদায়িক ,স্বাধীনচেতা মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্যে সচেতন হয়েছে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। হাজার বছরের এ জনমন্ডলির মাতৃভাষা বাংলাকে যৌথ সম্পদের মহিমায় স্থান দিতেই ভাষা আন্দোলনে সাধারনের সমর্থন প্রদানের বস্তুগত কারন।তাই ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা হিসেবে আমরা পাই অসাম্প্রদায়িক গনমুখী দাবিতে বুদ্ধিজিবি-ছাত্র-সাধারন মানুষের ঐক্য।
দ্বিতীয় শিক্ষা হল এই যে, সমাজ রুপান্তরে সামন্তীয় উপনিবেশিক মধ্যযুগীয় ধ্যানধারনা ছিড়ে-ছুড়ে ফেলতে হবে।সমাজের মোড়লদের বাইরে নবনবীনদের নেতৃত্বে সমাজের বিপুল কৃষক,শ্রমিকও নারী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহন ছিল ভাষা আন্দোলনের বিস্ময়কর দিক। এ আন্দোলনে মধ্যযুগীয় মর্যাদাব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে এবং নতুন মর্যাদাবোধে নারী পুরুষের সাম্যের-সমঅধিকারের ধারণা বাস্তবায়ন হতে শুরু করেছে।গনবিরোধী ঔপনিবেশিক আইনের প্রতি প্রচলিত আনুগত্যবোধে এ আন্দোলন কুঠারাঘাত করেছে।তখনকার বুদ্ধিজীবীরা যেখানে জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিরোধীতা করেছে সেখানে ছাত্র জনতা, শ্রমিক জনতা ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিল বের করেছে।তখনকার পূর্ব-পাকিস্তানে এই গনবিপ্লবীপনা ছিল অভুতপুর্ব।
লড়াইয়ের উদ্দেশ্য এবং সাফল্যকে জীবন্ত রাখা এবং তাকে বিকশিত করার ধারাবাহিক লড়াই অতীব গুরুত্বপুর্ন, এটাকে আমারা ভাষা আন্দোলনের তৃতীয় শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করব।ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, শহিদদের স্মরণে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..." গান, "আরেক ফাল্গুণ" এর মত সাহিত্যে ভাষা আন্দলনের ইতিহাস চর্চা ইত্যাদি ইত্যাদি অনুসঙ্গ ছিল ভাষা আন্দোলন কে জীবন্ত ও তাৎপর্যপুর্ণ ও প্রাসঙ্গিক রাখার প্রয়াসের উদাহরণ।এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে এবং একাত্তরের সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রেরনা হিসেবে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারির ১৪৪ ধারা ভঙ্গের গৌরবময় ঔদ্ধত্যকে দেখতে পাই। তাই লড়াইয়ের ফসলকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের যথাযথ কর্মসুচি নিতে হবে এবং সমাজ বিকাশের লড়াই জারি রাখতে হবে।
এ সকল শিক্ষা আমাদের গৌরবের অর্জন।বর্তমান ফ্যাসিস্ট গুম খুনের শাসনের বিপরীতেও ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, শিক্ষা ও ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব আমাদের মুক্তি দিতে পারে বলে বিশ্বাস করি।
জাহাঙ্গীর আলম জামাল : সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন , বরিশাল জেলা সংসদ
আরও পড়ুন : 'একুশের' অমরত্ব ও বিশ্বজনীনতা
আরও পড়ুন : 'একুশের' অমরত্ব ও বিশ্বজনীনতা

Comments
Post a Comment